বজ্রপাত কেন হয়? কিভাবে হয়?? এবং এর প্রতিনিরোধক!!
বজ্রপাত ও বজ্র নিরোধক
আকাশে মেঘ জমা হওয়ার সময় জলীয় বাষ্প যখন উপরে উঠতে থাকে তখন সেই জলীয়বাষ্পের ঘর্ষণের কারণে কিছু ইলেকট্রন আলাদা হয়ে নিচের মেঘ গুলো মাঝে জমা হতে থাকে। তখন স্বাভাবিকভাবেই উপরের মেঘের মাঝে ইলেকট্রন কম পড়ে এবং সেখানে পজেটিভ চার্জ জমা হয়। মেঘের ভিতর যখন প্রচুর চার্জ জমা হয় তখন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার জন্য মেঘের ভেতরে বড় স্পার্ক হয় যেটাকে আমরা বলি বিজলী চমকানো। মাঝে মাঝে আকাশে মেঘে এত বেশি চার্জ জমা হয় সেগুলো বাতাসকে আয়নিত করে আক্ষরিক অর্থে লক্ষ মাইল বেগে মাটিতে নেমে আসে এবং আমরা সেটাকে বলে বজ্রপাত। বজ্রপাতের সময় মেঘ থেকে বিশাল পৃথিবীতে নেমে আসে। বাতাসে ভেতর দিয়ে যাবার সময় সেটা বাতাসকে আয়নিত করে ফেলে তখন সেখানে প্রচন্ড তাপ আর আলো আর শব্দ তৈরি হয়। এই বিশাল পরিমাণ চার্জ যেখানে হাজির হয় সেখানে ভয়ঙ্কর ক্ষতি হতে পারে।
বজ্রপাতের সময় লক্ষ্য এম্পিয়ার এর মত বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে পারে এবং এই বিদ্যুৎ প্রবাহের জন্য বাতাসের তাপমাত্রা 20 থেকে 30 হাজার ডিগ্রী সেলসিয়াস পর্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে যায়। যেটা সূর্যের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা থেকেও বেশি।!!
তাপমাত্রার কারণে আমরা নীলাভ সাদা আলোর ঝলকানি দেখতে পাই। তাপমাত্রার কারণে আরো একটা ব্যাপার ঘটে, বাতাস টুকু উত্তপ্ত হয়ে ফুলে ফেঁপে ওঠে বাইরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরের বাতাস বাইরে বাইরে বাতাস এসে শূন্যস্থান পূরণ করে পুরো বিষয়টি ঘটে তাড়াতাড়ি এবং একটি গণনা বিদারীশব্দ হয়।বাতাসের গতি শব্দের চেয়ে দ্রুত হলে তাকে বলে শর্কওয়েভ এবং বজ্রপাতের শব্দ এক ধরনের শর্কওয়েভ। আলোর ঝলকানি এবং শব্দ একই সাথে তৈরি হলেও আমরা আলোর ঝলকানি প্রথমে দেখি। আলোর গতিবেগ এত বেশি যে সেটা প্রায় সাথে সাথে পৌঁছে যায় শব্দের গতি 330m/s এর মত অর্থাৎ এক কিলোমিটার যেতে প্রায় তিন সেকেন্ড সময় নেয়। কাজেই আলোর কত সেকেন্ড পরে শব্দটা শোনা যাচ্ছে সেখান থেকে আমরা বজ্রপাত টা কত দূরে হয়েছে সেটা অনুমান করতে পারি। আনুমানিক ভাবে প্রায় তিন সেকেন্ডের জন্য এক কিলোমিটার।
বজ্রপাতের সময় যেহেতু আকাশের মেঘ থাকে বিদ্যুৎপ্রবাহ নিচে নেমে আসে তাই এটা সাধারনত উচ্চ জিনিসকে সহজে আঘাত করে। তাই বজ্রপাত থেকে রক্ষা করার জন্য উঁচু বিল্ডিং এর উপর সলাকা লাগানো হয় যেটা মোটা বিদ্যুৎ সুপরিবাহী এবং তার দিয়ে মাটির গভীরে নিয়ে যাওয়া হয়। এর পেছনে বিজ্ঞান খুব সহজ আমরা আগেই দেখেছি চার্জযুক্ত কোন কিছু চার্জহীন কোন কিছুর কাছে আনলে সেটা বিপরীত হয়। তাই বজ্রপাত হবার উপক্রম হলে বজ্র শলাকাতে পজিটিভ চার্জ জমা হয় এবং সুচোলো সলাকা থাকার কারণে সেখানে তীব্র ইলেকট্রিক ফিল্ড তৈরি করে। সেই ইলেকট্রিক ফিল্ড এর কারণে আশেপাশে থাকা বাতাসে জলীয় বাষ্প আয়ণিত হয়ে যায় এবং আকাশের দিকে উঠে মেঘের নেগেটিভ চার্জকে চার্জহীন করে বজ্রপাতের আশঙ্কাকে কমিয়ে দেয়। অনেক উচু বিল্ডিং এ যখন সলাকা রাখা হয় সেটি প্রায় সব সময় সত্যিকারের বজ্রপাত গ্রহণ করে আর বিশাল পরিমাণে চার্জ কে সে নিরাপদে মাটির ভেতর দিয়ে নিয়ে যায়। আকাশ থেকে নেমে আসা বিদ্যুৎ অনিয়ন্ত্রিতভাবে না গিয়ে সেই মোটা তার দিয়ে মাটির গভীরে চলে যাবে।সুচালো শলাকায় শুধু যে বজ্রপাত হয় তা নয়, এই শলাকা দিয়ে বিপরীত চার্জ বের করে মেঘের মাঝে জমে থাকা চার্জকে নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারে। এই কারণে উচু বিল্ডিং গুলোতে বজ্রপাত নিরোধক শলাকা লাগানো হলে বজ্রপাতের আশঙ্কা অনেক কমে যায়।

No comments