কিডনির রোগ ও কিডনি সুস্থ্য রাখার উপায়।



বৃক্কে পাথর
 নানা রকম রোগের কারণে বৃক্কে বা কিডনির স্বাভাবিক কাজের বিঘ্ন ঘটে কিডনির প্রদাহ প্রস্রাবের সমস্যা কিডনিতে পাথর হওয়ার এর মাঝে উল্লেখযোগ্য কিডনি রোগের লক্ষণ গুলো হল শরীর ফুলে যাওয়া প্রস্রাবে অতিরিক্ত প্রোটিন যাওয়া রক্ত মিশ্রিত প্রস্রাব হওয়া প্রসাবে জ্বালাপোড়া করা ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া বা ক্ষেত্রবিশেষে প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া। মানুষের কিডনিতে ছোট আকারের পাথর জাতীয় পদার্থের সৃষ্টি কিডনির পাথর হিসেবে পরিচিত। কিডনিতে পাথর হতে পারে তবে দেখা গেছে মেয়েদের থেকে পুরুষের পাথর হওয়ার আশঙ্কা বেশি। অতিরিক্ত শারীরিক ওজন, কিডনির সংক্রমণ, কম পানি পান করা ইত্যাদি বৃক্ক বা কিডনিতে পাথর হওয়ার কারণ হতে পারে। প্রাথমিকভাবে পাথর হলে তেমন সমস্যা ধরা পড়ে না সমস্যা হয় যখন পাথর প্রস্রাব নালীতে চলে আসে এবং প্রস্রাবে বাধা দেয়। উপসর্গ হিসেবে কোমরের পেছনে ব্যথা হবে অনেকের প্রস্রাবে রক্ত বের হয় অনেক সময় কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে। পাথরের চিকিৎসা নির্ভর করে পাথরের আকার এবং অবস্থানের উপর সাধারণত অধিগ্রহণ এবং ঔষধ সেবনে পাথর অপসারণ করা যায় আধুনিক পদ্ধতিতে আল্ট্রাসনিক অথবা অস্ত্রোপচার করে পাথর অপসারণ করা যায়।

ডায়ালাইসিস, নেফ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ কিডনিতে পাথর ইত্যাদি কারণে কিডনি ধীরে ধীরে বিকল হয়ে যায়। আকস্মিক কিডনি অকেজো হওয়ার কারণ গুলো হলোঃ কিছু ঔষধের পার্শপ্রতিক্রিয়া, মারাত্মক ডায়রিয়া, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এর পরিমাণ কমে যাবে রক্তে ক্রিয়েটিনিন বৃদ্ধি পাবে তখন অপসারণের জন্য নির্দিষ্ট সময় পর পর রোগীকে ডায়ালাইসিস করা হয় বৃক্ক সম্পূর্ণ অকেজো বা বিকল হওয়ার পর বৈজ্ঞানিক উপায়ে রক্ত পরিশোধিত করার নাম ডায়ালাইসিস। মেশিন মেশিনের সাহায্যে রক্ত পরিশোধিত করা হয়। এ মেশিনের ডায়ালাইসিস টিউব আক্রান্ত রোগীর হাতের কবজি এবং অন্য প্রান্ত ওই হাতের কব্জির সাথে সংযোজন করা হয় টিউব এর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করানো হয়। এর প্রাচীর আংশিক বৈষম্যভেদ্য হওয়ার ইউরিক অ্যাসিড এবং অন্যান্য ক্ষতিকর পদার্থ বাইরে বেরিয়ে আসে। পরিশোধীত রক্ত রোগীর দেহের শিরার মধ্য দিয়ে দেহের ভেতরে প্রবেশ করে। এখানে উল্লেখ্য, এমন একটি তরল থাকে যার রক্তের প্লাজমা অনুরূপ হয়। এভাবে ডায়ালাইসিস মেশিনের সাহায্যে নাইট্রোজেন ঘটিত পদার্থ ইউরিয়া এবং অন্যান্য বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশিত হয়। তবে এটি একটি ব্যয়বহুল এবং সময় সাপেক্ষ প্রক্রিয়া।

 সতর্কতাঃ
অনেকে ডায়রিয়া বা বমি হওয়া ছাড়াই গরমে ঘেমে গেলে ক্লান্ত অবস্থায় কিংবা তেমন কোনো কারণ ছাড়াই খাবার স্যালাইন পান করে থাকেন। এটি একেবারেই ঠিক নয়। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষের বেলায় ডায়রিয়া বমি ছাড়া অন্য ক্ষেত্রে অতিরিক্ত খাবার স্যালাইন বিপদ ডেকে আনতে পারে। এমনকি ডায়রিয়া বমি হলেও তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক সঠিক পরিমাণে স্যালাইন দিতে হবে। সাধারণ ক্লান্তি বাঘার খেজুর রস এবং সামান্য লবণ মিশ্রিত শরবত ই যথেষ্ট। ডায়াবেটিস না থাকলে কিছুটা চিনি ও যোগ করা যেতে পারে।

 কিডনি সুস্থ রাখার উপায়ঃ
শিশুদের থেকে সাবধান হওয়া প্রয়োজন। কেননা সেখান থেকে কিডনির অসুখ হতে পারে। ডায়াবেটিস উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত। দ্রুত চিকিৎসা করতে হবে ধূমপান ত্যাগ করা এবং ব্যথা নিরাময়ের ঔষধ পরিহার করা প্রয়োজন। পরিমাণ মত পানি পান করতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা নিয়ম মেনে জীবন যাপন করতে হবে এভাবে কিডনি সুস্থ রাখা সম্ভব

No comments

Powered by Blogger.