নতুন এনজাইম তৈরির পথ দেখিয়ে রসায়নে তিন বিজ্ঞানীর নোবেল



রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস বুধবার এ পুরস্কারের জন্য মার্কিন বিজ্ঞানী ফ্রান্সেস এইচ আর্নল্ড ও জর্জ পি স্মিথ এবং ব্রিটিশ গবেষক স্যার গ্রেগরি পি উইন্টারের নাম ঘোষণা করে। 
১৯০১ সালে নোবেল পুরস্কার চালুর পর পঞ্চম নারী হিসেবে রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেলেন ফ্রান্সেস এইচ আরনল্ড। সর্বশেষ ২০০৯ সালে এডা ইউয়োনাথ যৌথভাবে এ পুরস্কার পেয়েছিলেন।
নোবেল পুরস্কারের ৯০ লাখ সুইডিশ ক্রোনারের মধ্যে আর্নল্ড পাবেন অর্ধেক। আর বাকি অর্ধেক স্মিথ ও উইন্টার ভাগ করে নেবেন।
আগামী ১০ ডিসেম্বর সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।
ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলোজির গবেষক আরনল্ড নোবেল পেয়েছেন গবেষণাগারে বিবর্তনবাদের প্রাকৃতিক নির্বাচনের নিয়ম নিয়ন্ত্রিতভাবে খাটিয়ে বিশেষ ধরনের এনজাইম তৈরির জন্য, যা বিশেষ কাজে ব্যবহার করা যাবে। 
এনজাইম হল প্রোটিন দিয়ে তৈরি জৈব-রাসায়নিক অনুঘটক যা, জীবকোষের বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।
তার ওই গবেষণার ওপর ভিত্তি করেই পরবের্তিতে শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য পরিবেশবান্ধব রাসায়নিক এবং নতুন ধরনের ওষুধ উৎপাদনের জন্য এনজাইম তৈরির পথ উন্মুক্ত হয়েছিল। 
নোবেল জয়ের খবরে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় উচ্ছবসিত আরনল্ড রয়টার্সকে বলেন, “কেউ কেউ কুকুর বেড়ালের নতুন জাতের বাচ্চা ফোটান, আর আমি তৈরি করি মলিকিউল।”
নোবেল কমিটি বলছে, আর্নল্ড বিবর্তনবাদের নিয়ম ব্যবহার করে নতুন ধরনের প্রোটিন তৈরির যে কৌশল উদ্ভাবন করেছেন, তা বিজ্ঞানের গতিপথই বদলে দিয়েছে।
“এখন আমাদের কাপড় ধোয়ার ডিটারজেন্টেও এনজাইম ব্যবহার করা হয়, আর সেসব তৈরি হয়েছে আর্নল্ডের দেখানো পথেই। এমন কিছু এনজাইম তৈরি হয়েছে যা নতুন ধরনের বায়োফুয়েল উৎপাদন অথবা নতুন ওষুধের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান তৈরির সুযোগ করে দিয়েছে। 
যুক্তরাষ্ট্রের মিজৌরি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জর্জ পি স্মিথ এবং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক উইন্টারকে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে নতুন প্রোটিন তৈরির জন্য ‘ফেইজ ডিসপ্লে’ নামের কৌশল উদ্ভাবনের জন্য। 
তারা গবেষণাগারে ব্যাক্টেরিওফাজ নামের এক ধরনের ভাইরাস ব্যবহার করে নতুন ধরনের এন্টিবডি তৈরি করেন  ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ারোধী নতুন ওষুধ তৈরির পথ করে দেয়। 
সেই থেকে বিভিন্ন ধরনের জীবাণু বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে এবং মেটাস্ট্যাটিক ক্যান্সারের চিকিৎসায় কাজে লাগতে পারে এমন এনজাইম তৈরিতে ‘ফেইজ ডিসপ্লে’ পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
528
Shares

নতুন এনজাইম তৈরির পথ দেখিয়ে রসায়নে তিন বিজ্ঞানীর নোবেল

No comments

Powered by Blogger.